২২ আগস্ট, ২০১৯ | ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ | ২০ জিলহজ্জ, ১৪৪০


বিবিএন শিরোনাম
  ●  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ রোহিঙ্গা নিহত   ●  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে আজ   ●  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী   ●  মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের হামলায় ৩০ সেনা নিহত   ●  মাতামুহুরী নদী থেকে দুই হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ   ●  চৌফলদন্ডীতে পুলিশের উপর হামলা করে ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিনতাই, আহত ২   ●  ঈদগাঁওতে সৌদিয়া পরিবহনের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত   ●  জালালাবাদ থেকে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ   ●  চকরিয়ায় সার্ফারী পার্কে প্রশিক্ষিত হাতির আঘাতে মাহুত নিহত   ●  বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস ক্ষমা করেনি-এমপি কমল

ঈদগড়ে বাউকুল বাগান

সখের বাউকুলে পাল্টেছে বিদেশ ফেরত দুই বন্ধুর ভাগ্য

ওসমান সরওয়ার ডিপো:

সবুজ আম বা আপেল আকৃতির বাউকুলে ভরা প্রতিটি গাছ দেখে মনে হবে এ যেন বিদেশী কোন ফ্রুটজোন। পাকা-আধ পাকা কুলে প্রতিটি গাছ মাটির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ভালো করে তাকিয়ে দেখলে মনে হবে, ঝাঁকে ঝাঁকে যেন পাখিদের খাবারের মেলা বসেছে। পুরো বাগান জুড়েই এ দৃশ্য।

বিদেশ ফেরত দুই বন্ধু নাজিম উদ্দিন ও নুরুল আলম ভিন্ন কিছু করার চিন্তা করেন। এরপর নিতান্তই সখের বসে কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের বউঘাটা এলাকায় ৫ একর জমি ইজারা নিয়ে শুরু করেছিলেন ‘মেম্বার বহুমুখী এগ্রো ফার্ম’ নামে এই বাউকুলের বাগান। সখ থেকে শুরু এই বাউকুলে এখন দুই বন্ধুর জীবনমানও পাল্টেছে।

সে ২০১২ সালের কথা। স্বাদ এবং আকারে ভিন্নতা থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে ভোক্তার নজরে চলে আসে এই বাগানের বাউকুল। চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে দিনদিন। লোকমুখে এই বাগানের কুল এখন ‘ঈদগড়ের বরই’ নামে পরিচিত। ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, উখিয়া এবং মহেশখালীতে সরবরাহ করা হয় এসব কুল। অল্প কিছু যায় চট্টগ্রামে। মাঝেমধ্যে সকল ক্রেতার চাহিদা মেটাতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয় তাদের।

কক্সবাজার জেলার প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও অর্ডার দেয়ার আবদার করেন। কিন’ প্রায় সময় তা রক্ষা করা সম্ভব হয়ে উঠে না।

সাধারণত মার্চ মাসে প্রতিটি গাছের মূল রেখে সকল ডাল-পালা কেটে ফেলা হয়। আর এই মূলের গোড়াতে সারাবছর সার, কীটনাশক দিয়ে পরিচর্যা করা হয়। মূল থেকে আগের চেয়ে বিস্তৃত আকারে ডাল-পালা বের হয়। মুকুল আসলে শুরু হয় আরেক ধাপের পরিচর্যা। যা চলে কুল পাকা পর্যন্ত। কুল পাকতে শুরু করে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে।

৫০০ গাছের পরিচর্যা করার জন্য ৬ জন স্থায়ী ও ১৫ জন অস্থায়ী কর্মী রেখেছেন নাজিম উদ্দিন ও নূরুল আলম। দশ লক্ষ টাকা মূলধনে গত বছর মোট কুল উৎপাদন হয়েছে ৩৯ টন। আর লাভ হয়েছে নয় লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা।

নিয়মিত ভোক্তা জাফর আলম বলেন, বাজারে এই বাগানের কুল আসার জন্য অপেক্ষাই থাকি। অন্য কোন কুল এখন আর স্বাদ লাগে না। গুণগত মানের ভরসাও পাই না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উসৈশিং এই কুল খেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বাগান পরিদর্শনে এসেছিলেন চ্যানেল আই’র পরিচালক ও কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ এর উপস্থাপক শাইখ সিরাজ।

পাইকারি আড়তদার সাঈদী বলেন, স্বাদে এবং আকারে বড় হওয়ায় অন্যান্য কুলের চেয়ে কেজি প্রতি দশ টাকা বেশি বিক্রি করতে পারি এ বাগানের কুল। খুচরা বিক্রেতা এবং ভোক্তারাও কিনছে খুশি মনে।

এবছর এ পর্যন্ত ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কুল আহরণ হয়েছে ১৫ টন। আর আয় হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। প্রতিদিন ৭০০ কেজি কুল বাজারে সরবরাহ করা হয়। এখনো কুল পাকার মৌসুম শুরু হয়েছে। যা চলবে মার্চ নাগাদ। তাই এবছর লক্ষমাত্রা ৪৬ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন এ দুই উদ্যোক্তা।

বাগান মালিক নুরুল আলম বলেন, তাদের কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে এখন অনেকে কুল চাষের দিকে ঝুঁকছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে তাদের আরও বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে।

কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ.ক.ম. শাহরিয়ার বলেন, আমরা খুবই সন্তুষ্ট এই বাগান নিয়ে। আর তাদের মধ্যে যে আন্তরিকতা রয়েছে তা উৎসাহ দিচ্ছে নতুনদের। আশা করছি দুয়েক বছরের মধ্যে তারা অনেক বড় সফলতা পাবে। আর তাদের কোন ধরনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার দরকার হলে আমরা দিতে প্রস্তুত।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :