২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ | ২৩ মুহাররম, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম
  ●  কক্সবাজারের চেহারা পাল্টে যাবে: ওবায়দুল কাদের   ●  জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী   ●  পাকিস্তানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ২৬   ●  সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে কংক্রিটের ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে   ●  ঈদগাঁওতে টমটম চালককে হত্যাঃ প্রতিবাদে শ্রমিকলীগের মানববন্ধন   ●  ঈদগাঁওতে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত যুবকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরঃ পৃথক দুই মামলা   ●  রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে সরকারের পাশে থাকুন   ●  উখিয়া মাদক কারবারির বাড়ির মাল ক্রোক   ●  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা দম্পতি নিহত   ●  ঈদগাঁওতে টমটম চালককে গুলি করে হত্যাঃ অস্ত্রসহ সাবেক সেনা কর্মকর্তার পুত্র ঘাতক আটক 

সুন্দরবনে বিড়াল কাহিনী

আব্দুল কুদ্দুস রানা:

রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখবো বলে খুলনা এসেছিলাম। খুলনা থেকে মংলা সমুদ্র বন্দর । তারপর সেখান থেকে বিশেষ জাহাজে প্রথমে সুন্দরবনের করমজল নামলাম। সুন্দরবনের ভেতরে করমজলে প্রথমে আক্রমণের শিকার হলাম বানরের।

কয়েকটা বানর এসে গায়ের ওপর হামলে পডলো। হুংকার দিলাম, পালাল বানর। এখানে দেখা হলো হরিণ, কুমিরসহ নানা প্রানীর। বিশাল একটা সাইনবোর্ডে লেখা আছে সুন্দরবনের বাঘ আছে ১০৬টি। কিন্তু একটি বাঘও দেখলাম না । রয়েল বেঙ্গলের ছবি তুলতে পারলাম না ।

সফর সঙ্গি অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বললেন, মন খারাপ করিও না। ৫০ কিলোমিটার দুরে হাড়বাডিয়া পয়েন্ট গেলে নিশ্চিত বাঘের দেখা পাবে। সেখানে একেবারে খাঁটি মধু পাওয়া যায়। বিকালে একই জাহাজে গেলাম সেই হাড়বাডিয়া পয়েন্টে। সেখানকার গহিন সুন্দরবনও ঘুরে দেখা হলো। কিন্তু বাঘের দেখা হলো না।

খুলনা থেকে সুন্দরবন রওয়ানা দেওয়ার প্রাক্কালে আমার খুবই প্রিয় মানুষ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সেলিম মো জাহাঙ্গীর ভাই বলেছিলেন সুন্দরবনে বাঘ দেখতে যাচ্ছেন ভালো, কিন্তু সেখানে বিড়ালের দেখা পেলেই যথেস্ট।

এখন সুন্দরবন এসে বারবার সেলিম ভাইয়ের সেই কথাটা মনে পড়ছিল ।

সফর সঙ্গি সাংবাদিক আবু তাহের চৌধুরী নিয়ে গেলেন সুন্দরবনের একেবারে ভিতরে, যেখানে নানা প্রাণীর হুংকার কানে আসছে। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন গোলপাতার বনে। বনের এক কোনে বসে আছে একটি সাদা বিড়াল । তাহের ভাই বিড়ালের দিকে দেখিয়ে বললেন এই তোমার রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ভালো করে ছবি তোল ।

মনটা খারাপ হয়ে গেল। ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারের বিশাল সুন্দরবনে একটা বাঘ নেই ? বাঘের বদলে বিড়াল ?

স্থানীয় এক বনপ্রহরী এগিয়ে এসে বললেন, বাঘের দেখা পেতে হলে রাতে থাকতে হবে। তখন হরিণের লাফালাফিও দেখতে পাবেন।

চট্টগ্রামের সাংবাদিক বন্ধু তপন চক্রবর্তী এসে বললো রাতে ঝুকি নিয়ে বাঘ দেখতে যাওয়া ঠিক ক হবেনা। আমরা বরং মধু কিনতে যাই , একেবারে খাঁটি মধু।

প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দামে তপন কিনলো ২ কেজি মধু। অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান কিনলেন আড়াই কেজি । আবু তাহের কিনলেন ২ কেজি। আর আমি কিনলাম মাত্র আধা কেজি। কারন পকেটের টাকা ততক্ষনে শেষ। সুন্দরবনেতো আর বিকাশ এজেন্ট নেই।

সুন্দরবনে আমরা বেশ ভালো আছি। রাতটা কাটানো গেলেই সকালের দেখা পাবো, তারপর নিরাপদ জোনে ফিরতে পারবো।
সবার জন্য শুভকামনা ।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, সুন্দরবন, মংলা।

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার- প্রথম আলো। লেখাটি লেখকের ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :