২২ আগস্ট, ২০১৯ | ৭ ভাদ্র, ১৪২৬ | ২০ জিলহজ্জ, ১৪৪০


বিবিএন শিরোনাম
  ●  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ রোহিঙ্গা নিহত   ●  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে পারে আজ   ●  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী   ●  মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের হামলায় ৩০ সেনা নিহত   ●  মাতামুহুরী নদী থেকে দুই হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ   ●  চৌফলদন্ডীতে পুলিশের উপর হামলা করে ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিনতাই, আহত ২   ●  ঈদগাঁওতে সৌদিয়া পরিবহনের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত   ●  জালালাবাদ থেকে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ   ●  চকরিয়ায় সার্ফারী পার্কে প্রশিক্ষিত হাতির আঘাতে মাহুত নিহত   ●  বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী জিয়াউর রহমানকে ইতিহাস ক্ষমা করেনি-এমপি কমল

সুশাসন নিশ্চিত করাই জরুরি

নির্বাচন-পরবর্তী মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একটি হলো যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি, দুর্নীতিবাজ ও মাদকাসক্তদের জন্য তার সরকারে কোনো জায়গা হবে না। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী সুশাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া সরকার দল-মত নির্বিশেষে সবার উপকারেই কাজ করে যাবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিবও বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন যথাযথ হয়নি। বিভিন্ন পশ্চিমা সরকার ও সংবাদপত্রও নানা প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন নিয়ে। তবে বর্তমানকালে যেহেতু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক তথা অর্থনৈতিক স্বার্থই প্রাধান্য পেয়ে থাকে তাই প্রশ্ন তোলার পরও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করছে সব সরকারই। আর যেহেতু প্রধান বিরোধী দলের পক্ষে নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণাকে রাজপথের আন্দোলনে রূপ দেওয়া সম্ভব নয়, তাই সরকার দেশেও তেমন বিরোধিতার মুখোমুখি হবে না বলেই মনে হয়। এই প্রেক্ষাপটে আমরা আশা করব প্রধানমন্ত্রী তার নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে সুষ্ঠুভাবে সরকার পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।বর্তমান সরকার গত দুই মেয়াদে অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করলেও দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিস্তার রোধে সক্ষম হয়নি। সরকারের প্রশাসন যন্ত্রের সর্বস্তরে এবং সরকারি দলের সর্বমহলেই দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাতে বড় আকারের অনেকগুলো কেলেঙ্কারি হয়েছে, যার কোনোটিরই সুরাহা সরকার করতে পারেনি। তা ছাড়া সরকারি দপ্তরে সেবা ও আদালতে বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও মানুষের ভোগান্তি একইভাবে বহাল ছিল, অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। আর সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের দখলবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক দৌরাত্ম্য জনজীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। মানুষ এসব থেকে মুক্তি চায়।আমরা আশা করব চতুর্থবার এবং টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সুশাসন প্রতিষ্ঠার কাজে তার মন্ত্রিসভা নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে তিনি মন্ত্রীদেরও নজরদারিতে রাখার হুশিয়ারি দিয়েছেন। এ সতর্কবাণী যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়। কেননা একমাত্র সুশাসনের মাধ্যমেই তিনি সমালোচকের মুখ বন্ধ করতে পারবেন, সমালোচনার জবাব দিতে পারবেন। আশা করি বর্তমানে অত্যন্ত পরিণত রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা মানুষের প্রত্যাশা বুঝতে সক্ষম হয়েছেন এবং তার ভিত্তিতেই সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে সুশাসনের ঘোষণা ছাড়াও জঙ্গিবাদী, দুর্নীতিবাজ, যুদ্ধাপরাধী, মাদকাসক্ত এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিকে নির্মূলের ঘোষণা ছিল। সুশাসনের পথ ধরে এসব লক্ষ্য পূরণ হলে বাংলাদেশ নিশ্চয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। আর সেভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনবান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠায় সফল হলে তার পক্ষে আগামী নির্বাচনেও জনগণের রায় পাওয়া সম্ভব হবে। যাহোক আপাতত মানুষ ক্যাডারদের উৎপাত বন্ধ করা ও সুশাসনের নিশ্চয়তা চায়।

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :