২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ | ২৩ মুহাররম, ১৪৪১


বিবিএন শিরোনাম
  ●  কক্সবাজারের চেহারা পাল্টে যাবে: ওবায়দুল কাদের   ●  জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী   ●  পাকিস্তানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ২৬   ●  সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে কংক্রিটের ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে   ●  ঈদগাঁওতে টমটম চালককে হত্যাঃ প্রতিবাদে শ্রমিকলীগের মানববন্ধন   ●  ঈদগাঁওতে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত যুবকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরঃ পৃথক দুই মামলা   ●  রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে সরকারের পাশে থাকুন   ●  উখিয়া মাদক কারবারির বাড়ির মাল ক্রোক   ●  টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা দম্পতি নিহত   ●  ঈদগাঁওতে টমটম চালককে গুলি করে হত্যাঃ অস্ত্রসহ সাবেক সেনা কর্মকর্তার পুত্র ঘাতক আটক 

সেন্টমার্টিনে নতুন করে ভাঙ্গন: এক মাসে দুই গ্রাম বিলীন

বঙ্গোপসাগরের প্রবল জোয়ারে ভাঙছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। গত দুই মাসে বিলীন হয়েছে দ্বীপের উত্তর ও পশ্চিম অংশের প্রায় ৩০০ নারকেলগাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি, কবরস্থান, দোকানপাট, হোটেল–মোটেলসহ নানা অবকাঠামো। এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছে দ্বীপের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। দ্বীপের বাসিন্দারা বলছেন, গত এক দশকে সমুদ্রের এমন উত্তাল রূপ তাঁরা দেখেননি। অতীতে বড় ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে দেশের বিভিন্ন উপকূল যখন লন্ডভন্ড হয়েছে, তখনো সেন্ট মার্টিনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তুলনামূলক কম। কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রের জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে সেন্ট মার্টিনসহ উপকূলের বেড়িবাঁধ ভাঙছে। সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, সেন্ট মার্টিনের আয়তন ছিল ৯ বর্গ কিলোমিটার। এখন দ্বীপটি বিলীন হতে হতে সাড়ে ৭ বর্গকিলোমিটারে ঠেকেছে। জোয়ারের ধাক্কায় আরও ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে।

উপড়ে পড়ছে নারকেলগাছ। নানা চেষ্টা করেও জোয়ারের প্লাবন ঠেকানো যাচ্ছে না। দ্বীপের ১০ হাজার বাসিন্দাকে রক্ষা করতে হলে চারদিকে স্থায়ী পাথরের প্রতিরক্ষা বাঁধ দিতে হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য দ্বীপের মানুষ মানববন্ধন করেছে, প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু কাজ হচ্ছে না। দ্বীপের বাসিন্দারা বলেন, গত এক দশকে একাধিক ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের ধাক্কায় প্রায় ৫০ একর বালুচর, কবরস্থানের কিছু অংশ, একটি মাদ্রাসা, শতাধিক বসতঘর বিলীন হয়েছে। আরও শতাধিক পরিবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, জোয়ারের ধাক্কায় দ্বীপের উত্তর পাশে পুলিশ ফাঁড়ির কিছু বিলীন হয়েছে। পাশের প্রাসাদ প্যারাডাইস হোটেল, কবরস্থান ও গ্রামের ১০-১৫ একর জমিও সাগরে মিশে গেছে। অর্ধভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে ১১টি বসতঘর। এ ছাড়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে উপড়ে পড়া নারকেলগাছ। এদিকে, পূর্ব পাশের বাজারের পাঁচটি দোকান ও তিনটি শুঁটকি মহালও বিলীন হয়ে গেছে। পশ্চিমে সাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদের সমুদ্রবিলাস, হোটেল অবকাশ, পান্না রিসোর্টসহ আশপাশের কিছু স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

জেটিঘাটের দোকানদার আলী আহমদ বলেন, গত বর্ষার চেয়ে এবার সমুদ্রের পানির উচ্চতা কয়েক ফুট বেড়েছে। এ কারণে দোকানপাট-ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। উত্তরপাড়ার গৃহবধূ জমিলা বেগম (৫২) বলেন, বসতভিটা সমুদ্রে বিলীন হওয়ায় গত দুই মাসে পাঁচবার ঘর পরিবর্তন করতে হয়েছে। সাত ছেলেমেয়ে নিয়ে উৎকণ্ঠায় আছেন। এই ঘরটি ভেঙে গেলে মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে না। ইউপি সদস্য হাবিব উল্লাহ খান বলেন, বর্ষা এলে আতঙ্ক বাড়ে দ্বীপের বাসিন্দাদের। গতবার ভাঙনের কবলে ঘরবাড়ি হারিয়েছে শতাধিক মানুষ। এবার আরও শতাধিক পরিবার আতঙ্কে আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো রবিউল হাসান বলেন, ভাঙনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কিছু কিছু এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।





আপনার মতামত লিখুন :